“কানে বন্দুক ঠেকিয়ে চলছে তৃণমূল রাজত্ব,’ধর্ষণের স্বর্গে’ পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ”

 

“কানে বন্দুক ঠেকিয়ে চলছে তৃণমূল রাজত্ব,’ধর্ষণের স্বর্গে’ পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ”

রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের এক বছরও পূর্তি হয়নি তৃণমূলের সরকারের।তাতেই জনগণের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠছে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার। তাহলেই রাজ্যবাসী বুঝতে পারছেন যে ঠিক কী চলছে রাজ্য়ে! এতদিন পুলিশ,প্রশাসনের উপর, সরকারি আধিকারিকদের উপর প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পথে পরিচালিত করেছে শাসক দল। এখন বিচারব্যবস্থাতেও আক্রমণ করছে তাদের সমর্থকেরা। বুধবারদিন নক্কারজনক তৃণমূল পন্থী আইনজীবীদের দেখে আশ্চর্য বোধ করছিলাম। আদৌ কি ওই আইনজাবীরা আইনের পাঠ নিয়েছেন না কি তৃণমূলের কিছু গুণ্ডাকে কালো কোর্ট পড়ে পাঠানো হয়েছে সেখানে! বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে তাঁর নির্ভীক অবস্থানের জন্য সাধুবাদ জানাই । কিন্তু তিনিও বা কতদিন পারবেন এই অত্যাচারের সামনে মাথা নত না করে থাকতে পারবেন? উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ যে দক্ষ মহিলা পুলিশ আধিকারিককে তদন্তের দায়ভার দিয়েছিলেন প্রথমে,তিনি পার্কস্ট্রীট কাণ্ডের সময় সত্যি সামনে আনাতে তাঁকে গ্যারেজ হয়ে যেতে হয়েছিল সে কথা মনে রেখে তিনি কি পারবেন নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট দিতে?কারণ তাঁকে এই সরকারের অধীনেই চাকরি করতে হবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষণের তদন্তের আগেই ধর্ষকদের আড়াল করতে মাঠে নেমে যান।পুলিশকে ,এমনকি পোস্ট মর্টেম করছেন যে ডাক্তার তাঁদের বলে দেন কী কী লিখতে হবে। কারোরই স্বাধীনভাবে কোন কাজ করার উপায় নেই এই রাজ্যে। আমাদের এতো কর্মী খুন হয়েছেন,নাবালিকা ধর্ষণ হচ্ছে তিনি কোনদিনই তার জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করেননি ।বরং সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অপরাধ নিয়ে।

সাংবাদিকদেরও কোন নিরপত্তা নেই । বেহালায় খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা। পৌরসভা নির্বাচনে হয়েছেন। তৃণমূলের রাজত্বে রাজ্যের সব স্থানেই এমন ঘটনা বেশি করে ঘটবে এই দল থাকলে। কারণ এখন তো লড়ছে তৃণমূলের দুই পক্ষ। বখরার জন্য। পাওনার হিসেবে গড়মিলের জন্য খুনোখুনি করছে আর তাতে মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

বালি, সিমেেন্ট,পাথর সব কিছু থেকে তাদের ছোট,মাঝারি ও বড় নেতাদের পকেট ভরেছে । তাতে একটি পরিবার লাভবান হয়েছে আর গোটা রাজ্য এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে । দুমাস পর থেকে জিএসটি থেকে যে রোজগার তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে । তাই প্রভিডেন্ড ফাণ্ডের দিকে এবার তাঁর নজর পড়েছে।রাজ্য সরকারের ভাঁড়ার যে শুন্য তা সবাই বুঝতে পারছে।

এমন পরিস্থিতিতেও বিজেপি সংবিধানের উপরই আস্থা রাখে। তারা চায় না রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন হোক । বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি। কিন্তু যখন লোকসভার মন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তিনি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসনকে হাতিয়ার হিসেবে বিজেপির বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার সুষ্ঠ মত রাজ্য চালাক। রাজ্যপালও তাই চান। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিনি তাই বারবার ফ্ল্যাগ তোলেন কোন গুরুতর ঘটনায়। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। কিন্তু তাতেও সমস্য়া তৃণমূলীদের। রেয়াত করেন না রাজ্যপালকে। অকথা-কুকথা শুনতে হয়। কালো পতাকা দেখতে হয় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই এখনও সময় আছে রাজ্যের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা,প্রশাসন, দলদাস পুলিশকে সঠিক পথে চালিত করুন। না হলে আমরাও বাধ্য হব সংবিধানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

About Video Timeline Gallery Contact