নৈরাজ্যে শিক্ষার ‘কালো কারবারে’ যুক্ত মন্ত্রী-সান্ত্রীরা

 

 

রাজ্যে ‘ব্যাক’ ডোর দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ ন্যায্য চাকুরি প্রার্থীরা করে আসছিলেন বহুদিন। সাধারণ ভাবে যা টেট মামলা বলে পরিচিত। দীর্ঘ চার বছর লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তার ধারে রোদে পুড়ে জলে ভিজে আন্দোলন করে চলেছেন প্রার্থীরা ।প্রাথমিক থেকে এসএসসি নিয়োগ, গ্রুপ সি থেকে ডি, সবেতেই শাসক দলের উঁচু তলার নেতা থেকে স্থানীয় চুনোপুঁটি নেতাদের দ্বারা তৈরি সুন্দর চেইন সিস্টেমের মাধ্যম এক বন্দোবস্তের ইঙ্গিত বারবার দিচ্ছিলেন ওই বঞ্চিত প্রর্থীরা। সেই সূত্র ধরেই উচ্চ আদলতে গিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট জেনারেল ও নিয়োগ সংস্থা এসএসসি-র কর্তারা বারবার ধমক খেয়েছেন। যে তালিকা মেনে নিয়োগ করা হয়েছে তার প্রত্যেকের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিতে বলা হয়েছে। দেওয়া হলে দেখা যায় তাতে বিস্তর গড়মিল। এমন অনেক নিয়োগ হয়েছে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন নি । আবার কেউ বা পরীক্ষার খাতা ফাঁকা রেখেই বহাল তবিয়তে কোন অদৃশ্য হাতের আশীর্বাদে চাকরি করছেন । গ্রুপ সি-র নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের প্যানেল বাদ দিয়ে নতুন প্যানেল যেমন করতে নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় , তেমনই বেতন ফেরত দিতে বলা হয়ওই সকল ভুয়োচাকরি প্রার্থীদের।

বাংলার রাজনীতিতে নিয়োগ ইস্যুর মধ্যেই সিবিআই এই তদন্তের ভার নিলে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষ মন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায়কে টানা পরপর ম্যারাথন জেরা করে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলে তদন্তের মোড় ঘোরে । নিজাম প্যালেসে টানা জেরার পরেই তদন্তকারীরা তাদের আশঙ্কার কথা জানান। যে সার্ভারের মাধ্যমে সব ডেটা সঞ্চিত আছে তা নষ্ট করে দেওযার ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কায় রাতারাতিই সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়। যা পুরোটাই নজিরবিহীন।
এর মাঝেই আরেক কাণ্ড ঘটে । রাজ্রেযশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে নিজ ক্ষমতাবলে মন্ত্রী চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে মামলা করেন ববিতা সরকার নামে এক যোগ্য চাকুরিপ্রার্থী। টানা চার বছর লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে কোন অদৃশ্য ক্ষমতা বলে অঙ্কিতা ওই চাকুরি পান।অথচ কোন ইন্টারভিউ না দিয়েই। এই ঘটনার জন্য মন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তার মেয় অঙ্কিতার বিরুদ্ধে সিসিআই তদন্তকারীরা এফআইএর দায়ের করে আদালতরে নির্দেশানুসারে । সঙ্গে আদালত অঙ্কিতাকে চাকুরি থেকে বরখাস্তের পাশাপাশি সমস্ত বেতন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।মামলাকারী ববিতাকেও সাড়ে চার বছরের বেতন দিওয়ার নির্দেশ দেন বিচার পতি গঙ্গোপাধ্যায়।

বারবার তদন্তে পরেশ অধিকারী হাজিরা দিচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষ প্রতি মন্ত্রী। তবে বোঝাই যায় তৃণমূলের শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ভাবে যোগ্য প্রার্থীকে চাকরি না দিয়ে অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়ে পাইয় দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরিয়েছেন উঁচু তলার নেতা -নেত্রীরা ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

About Video Timeline Gallery Contact