গণতন্ত্র ও রাজ্যকে বাঁচাতে বিজেপির হাত শক্ত করুন

 

 

সুধী নাগরিক বৃন্দ,

রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। যার মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়,তবে আসন্ন পৌর নির্বাচন অন্যতম বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের মুখোশ পুরোটাই খুলে পড়েছে ,যতদিন যাচ্ছে তা রাজ্যবাসীর কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটের জয়ী হয়েও তাদের রাজনৈতিক হিংসার প্রবণতা একটুও কমেনি,বরং তা উত্তোরতর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী,বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের হাতে ও ভাতে মারার জন্য রাজ্যের প্রতিটি কোণাতেই চলছে ষড়যন্ত্র।নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে বিরোধী প্রার্থীদের ধমকে চমকে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা আসলে রাজ্যে বিজেপি শূন্য করাই তাদের উদ্দেশ্য। ভয় দেখিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য,বিধায়কদের দল ভাঙিয়ে তৃণমূলে ঢোকানোর ঘৃণ্য় চক্রান্ত করা হচ্ছে। কথা না শুনলে তাদেরকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।আলিপুরদুয়ারের যুবক শুভ্রজ্যোতিকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল তৃণমূলী হার্মাদদের হাতে শুধু বিজেপি করে বলে।বিধায়ক থেকে সাধারণ কর্মী নিস্তার পাননি কেউ।

আসন্ন যে পুরসভা নির্বাচন,তাতেও বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে ।ঠিক যেভাবে কলকাতায় বিজেপি প্রার্থীদের রাতের অন্ধকারে ভয় দেখিয়ে,অস্ত্র দেখিয়ে প্রচারে নামতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলের গুণ্ডা বাহিনী। খাস কলকাতার বুকে নির্বাচনের দিনে বিজেপি মহিলা প্রার্থীর গায়ে হাত দেওয়া তার ব্লাউজ ছেঁড়ার মত ঘটনা বর্বরোচিত সমাজেই সম্ভব যা কী না তৃণমূল শাসিত। একই চিত্র কলকাতা লাগোয়া বিধাননগর নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। রাতের অন্ধকারে বিজেপির পতাকা ছেঁড়ার কাজ চলছে।পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কোন লাভ নেই।কারণ তারা শাসকের দলদাসে পরিণত হয়েছে।বিরোধী শূন্য করার এই চক্রান্ত অত্যন্ত ঘৃণ্য ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।আমাকে অনেকেই বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রশ্ন করেন ? তাদেরকে একটাই কথা বলতে চাই বিজেপি আগের থেকে শক্তিশালী হয়েছে তার প্রমাণ আমাদের ৭৭জন বিধায়ক বিধানসভায় গিয়েছেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা যদি রোজ রোজ বিজেপির কর্মী নেতা এমনকি আমাকেও নিশানা করেন রাস্তায় নামলে,তবে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিশালী হওয়া কীভাবে চোখে দেখতে পাবেন আম আদমি।

রাজ্যে যে কোন নির্বাচন হওয়ার আগেই রাজ্যের আনাচে-কানাচে থেকে উদ্ধার হচ্ছে ঝুড়ি ঝুড়ি বোম।তৃণমূলী হার্মাদরা সেগুলির মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলি অপরাধের আখড়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের স্থানীয় শাসক দলের নেতারা মদত দিচ্ছে পাচার,মাদকের মত আন্তর্জাতিক অপরাধে। ভাগ-বাটোয়ারা করে চলে দিনের পর দিন মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে মালদহের কালিয়াচকের মত জায়গা। রাজ্যে জঙ্গীযোগের সন্ধান পেলেও তা নিয়ে মোটে হেলদোল নেই রাজ্যের পুলিশ ও গোয়েন্দাদের। বরং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলতেই থাকে রাজ্য সরকারের তরফে। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ সতর্ক থাকুন। বারুদের স্তূপে থাকা রাজ্যকে সামাল দিতে উদ্যোগী হতে হবে রাজ্যবাসীকেই।গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাঁচাতে বিজেপির সঙ্গে সামিল হতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে তৃণমূল স্তরের পরিষেবাকে সুনিশ্চিত করতে হবে প্রিয় নাগরিকবৃন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

About Video Timeline Gallery Contact