” বীরভূমের গণহত্যা পুরোই রাজনৈতিক ঘটনা। কোন দলের না জানলেও,গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই দুদিনে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এদিকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের দিকে কোন খেয়াল নেই,তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নানা রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”

 

বীরভূমের গণহত্যা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিহিংসার বলি অসংখ্য মানুষ।পানিহাটি হোক বা বীরভূম। শাসকের কাটমানির রাজনীতি,ক্ষমতার লড়াইয়ের রাজনীতি নিজেদের দলের মধ্যেই আগুন জ্বালিয়েছে।অথচ কোন ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের। আনিস খান থেকে পানিহাটি,পুলিশ শাসকের পুতুল। বিরোধীদের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া ছাড়া এই রাজ্যে পুলিশের কোন ভূমিকাই নেই। বীরভূমের ঘটনায় অভিযোগ, পুলিশের সামনে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে মানুষগুলিকে। পুড়তে দেখেও তারা বাঁচানোর কোন চেষ্টা করেনি।

এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা? তালিবানি শাসনের থেকে কী খুব উন্নত জায়গায় আছি আমরা? আনিস খানের হত্যাকে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বৃদ্ধ পিতার একরোখা অবস্থানে দ্বিতীয় বার দেহের ময়ানতদন্ত হলেও বিচার কী পেলেন সেই পরিবার? ‘দিদি’র পেটোয়া সংবাদমাধ্যমগুলি আচমকাই আনিসের সব খবর দেখানো বন্ধ করে দিল? প্রিয় রাজ্যবাসী ভেবে দেখুন কেন ওই সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে না? আসলে অসাধু পুলিশ ও তৃণমূল নেতৃত্বের নির্লজ্জ আঁতাতের ফলেই যে ওই রকম অনেক আনিসের মৃত্যু হচ্ছে রাজ্যের নানা প্রান্তে তা প্রকাশিত হয়ে পড়ছিল।তাই বন্ধ করা হল দেখানো। একই ভাবে রামপুরহাটের এই গণহত্যাকেও চেপে দেওয়া হবে । কেন্দ্রীয় দল চলে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলিকে লোভ দেখিয়ে বন্ধ করিয়ে দেওয়া হবে সম্প্রচার। রাজ্য সরকার প্রতিটি ঘটনাতেই সিট গঠন করে।

তবে সেই সিটের তদন্তে কী উঠে এল তা কখনই জানা যায় না! লোক দেখানো এই তদন্তের উপর তাই ভরসা উঠেছে মানুষের। সিবিআই তদন্ত চাইছেন রাজ্যবাসী।প্রতি ক্ষেত্রেই প্রকৃত তথ্য গোপন করছে রাজ্য সরকার। প্রিয়া রাজ্যবাসী,এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পুলিশ মন্ত্রী। বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এত অভিযোগের পরেও কেন চুপ থাকবেন তিনি? বিধানসভায় আমাদের বিধায়কেরা তাদের উত্তর দাবি করেছেন। তিনি এই সকল ঘটনার সময়েই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’বলে চিহ্ণিত করেছেন।আর বেরকায়দায় বলি দিয়েছেন পুলিশ কর্মী থেকে পুলিশ আধিকারিকদের। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শিঁকেয় তুলে দিয়ে মমতা চলেছেন প্রধানমন্ত্রী হতে? পশ্চিমবঙ্গে উপপ্রধান বা প্রধান বা পৌরপ্রতিনিধির পদ পেতে যেভাবে মুড়ি মুড়কির মত খুন হচ্ছেন মানুষ,কয়েকদিন আগে হওয়া পাঁচ রাজ্যের মধ্যে চার বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে এমন কোন খবর উঠে এসেছে কি? সবচেয়ে খারাপ (তৃণমূলের কথায়) শাসন উত্তরপ্রদেশ থেকেই বা কটা হিংসার খবর নির্বাচনের আগে বা পরে পেয়েছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন করছি রাজ্যবাসীকেও। উত্তর চান প্রশাসনের থেকে । রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

About Video Timeline Gallery Contact