বিজেপি বিকাশ ও উন্নয়নে বিশ্বাসী,আর তাতেই আস্থা ভারতবাসীর

 

গতকাল ১০ই মার্চ ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বের হয়েছে।যাতে চার রাজ্যে বিধানসভার সহজ জয় লাভ করেছে বিজেপি। তবে তার মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য ছিল যোগীজির রাজ্য শ্রীরামের জন্মভূমি উত্তরপ্রদেশ। কথায় বলে উত্তরপ্রদেশ যার, দিল্লির মসনদ তার। সেই মসনদে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রথমবারের জন্য জাতপাতের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে যুবা ও মায়েদের আশীর্বাদ পেয়েছেন মোদিজি ও যোগীজি। উত্তরপ্রদেশের try নির্বাচনের বিভিন্ন দফায় সমাজবাদী দলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলের একটি কার্যালয় বা শাখা সংগঠন খোলার যেখানে মুরদ নেই, সেখানে খানিকটা ফকট দালালি করে জনসভা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রথমত সেখানে যোগীজি ও বিজেপির সমালোচনা করতে যা হিন্দির ব্যবহার করেছেন তাতেই ওখানকার মানুষ জ্ঞান হারিয়েছিলেন। উনি হয় তো জানেন না দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে হিন্দি বলয়ে হিন্দিটা শুদ্ধভাবে বলা প্রয়োজন। যাই হোক তাও মুখ টিপে হেসেও উত্তরপ্রদেশের অপর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অখিলেশ যাদব তাঁর মুখে মোদি-যোগীর নিন্দা শুনেছিলেন। মমতা সেখানে বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক তকমা সহ আইনশৃঙ্খলার অবনতির নানা উদাহরণ দিয়েছিলেন। কৃষক আন্দোলনের রাজনীতিকরণের ফায়েদা তুলতে বিজেপিকে কৃষক বিরোধী দেখানোর সকল চেষ্টা যে ব্যর্থ করে দিয়েছেন সেখানকার মানুষ তা প্রমাণ দিয়েছে কালকের ফলাফল।

মমতা এরাজ্যেও মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন মিথ্যা কথা বলে। সেটা তিনি সেখানেও বলেছিলেন। কোভিডকালে না কি বাংলার গঙ্গায় উত্তরপ্রদেশ থেকে লাশ ভেসে আসছিল। যোগী সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই কাজ করেছিলেন বলে যে অপপ্রচার করেছিল মমতা অ্যান্ড কোং, তা মেনে নেননি উত্তরপ্রদেশের মানুষ। তাই সপাটে চড় মেরেছেন মমতা ও তার সহযোগী সমাজাবাদী দলকে। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা, সেখানে গণতন্ত্র লুন্ঠিত হয় প্রতি মুহূর্তে, আর তিনি কী না গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের পাঠ দিতে যোগী রাজ্যে! মেদিনীপুরের বিজেপি কার্যালয়ে বিজেপির অগণিত মানুষ এই রাজ্যের ভোটের ফলাফলের ৯মাস পরেও দিন কাটাচ্ছেন। তৃণমূলের গুণ্ডাদের অত্যাচারে ঘরে ফেরত যেতে পারছেন না । তিনি উত্তরপ্রদেশে গিয়ে গণতন্ত্রের কথা বলছিলেন হাথরাসের মত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা যা অবশ্যই দুঃখজনক ,তার উদাহরণ দিয়ে।
এবারে আসি গোয়ার কথায়। গোয়ায় তাঁর ভাইপো ও তিনি মিলে সরকারটা প্রায় গড়েই ফেলেছিলেন। মানুষের করের টাকায় বিমানে করে অসংখ্যবার তিনি ও তার দলীয় নেতৃত্ব রীতিমত মোচ্ছব করলেন। কালকের ফলাফলের প্রথম দিকে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা নিয়ে তারা তো এতটাই নিশ্চত হয়ে গিয়েছিলেন যে মমতা ব্যানার্জির জয়রথ দিল্লি অবধি নিয়ে ফেলেছিলেন টিভি চ্যানেলগুলিতে বসে। তবে গোয়ার মানুষ এত বোকা নন। তাই ফাঁকা আওয়াজে নয়,মোদিজির উন্নয়ন এজেণ্ডাতেই শিলমোহর দিয়েছেন। তার জন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। সর্বোপরি যে কথা না বললেই নয়,বাংলায় বিজেপি কর্মী বা কার্যকর্তাদের যেভাবে নিজেেদের বলিদান দিতে হয়েছে বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূলের, কাল ফলাফলের পর তেমন কোন খবর কি কোথাও চোখে পড়েছে বন্ধুগণ? কোন মুসলিম পরিবারকে আতঙ্কে ঘর ছাড়তে হয়েছে কি? একটু খবর নেবেন। বিজেপিকে ভয় পেয়ে বিজেপির নামে কুতসা রটানো আসলে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে মমতা ও তাঁর দল।তাই একটু সাহস করে তৃণমূলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রুখে দাঁড়ান আগামী নির্বাচনগুলিতে।বলপ্রয়োগে গণতন্ত্রকে প্রহসন করে যাতে আর বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃিতকে তলানিতে না নিয়ে যেতে পারে শোষক-শাসক তৃণমূল।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

About Video Timeline Gallery Contact