দিলীপদার কলম

“ভয়মুক্ত সমাজ,দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি বাংলায় প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থেই আমাদের লড়াই”

প্রিয় রাজ্যবাসী, কলম ধরতে হল দলের বিশেষ এক সন্ধিক্ষণে।সন্ধিক্ষণ এই জন্য বলছি কারণ বঙ্গ বিজেপির অনেক নেতাদের মধ্যের ক্ষোভ,এসন্তোষ দল ছাড়া নিয়েে গেল গেল রব তুলতে চাইছে দিদির প্রসাদ প্রাপ্ত মিডিয়ার লোকেরা। দুটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের কাছে একান্ত সাক্ষাতকারে আমি যে কথা বলেছি আবারও সেই কথা বলতে চাই, বুথ স্তরের কর্মী থেকে সর্বভারতীয় কার্যকর্তা সকলেই জানেন যে আমাদের দলের সাংগঠনিক কাঠামো। কিন্তু যারা জানেন না তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। সাধারণ মানুষেরা একেবারেই বঙ্গ বিজেপির টালামাটাল অবস্থা বলে ভাববেন না । পুরোনো সরে গিয়ে নতুনকে জায়গা করে দেওয়া,নব রূপে তাদেরকে দেখা,তাদের শক্তি পরীক্ষা করাই আমাদের দলের রেওয়াজ। দিনের পর দিন যারা সংগঠনে অগ্রণী ছিলেন তাদেরকে ছেড়ে দিতে হয়।আমি সর্বাধিক সময় ধরে প্রদেশের সভাপতি ছিলাম, আমার সময়ে যে দল সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে,সেকথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না কখনো।আমি নিজেই সেই পদ ছেড়ে দিয়েছি সর্বভারতীয় নেতাদের কাছে আর্জি জানিয়ে।

নতুন যারা কার্যভার গ্রহণ করেছেন তাদের সময় দিতে হবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার । নতুন কার্যকর্তারা তাদের নিজেদের টিম তৈরি করবেন নিশ্চয়ই সেক্ষেত্রে যারা ছেড়ে গেলেন তাঁদের কাজ দিতে হবে । এতদিন লাগাতার কোথাও না কোথাও নির্বাচনের কাজ ছিল, তাই সাংগঠনিকভাবে সকলকে পাওয়া যাচ্ছিল না । এবার লাগাতার আন্দোলের মধ্যে দিয়ে দল রাস্তায় নেমেছে। বঙ্গ বিজেপির সংঘব্ধ রূপ আবার সবার সামনে আসবে।

বিজেপির মত সর্বভারতীয় দল যাদের মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো তাদের কখনো ব্যাক্তি অনুগামীতে বিশ্বাসী কর্মী হয় না। দলের আদর্শ,নীতিকে সামনে রেখে দল এগিয়ে যায়। কর্মীরাও সেভাবেই এগোয়। তাই যারা বিভাজনের চেষ্টা করছেন তারা কখনই সফল হবেন না । অনেকের ক্ষোভ থাকতেই পারে, তা দেখার জন্য দিল্লির অভিভাবকেরা আছেন । তাঁদের কাউকে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলি তাঁরা শুনবেন। আমিও নানা সময়ে দলের সুবিধে অসুবিধে নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি একটি প্রক্রিয়া,যা সারাবছর ধরে চলতে থাকে। তৃণমূল থেকে যারা এসেছিলেন,তাঁদের মধ্যে কাউকে মাথায় করে রাখা হচ্ছিল নির্বাচনের আগে। তাঁদের উপর আস্থার জায়গা ভুল ছিল প্রমাণিত হয়েছে। তাই যা হওয়ার হয়েছে । তবে ৩ বিধায়ক থেকে ৭৭ এ নিয়ে যাওয়াটা ছোট করে দেখলে মোটেই চলবে না । আমরা যেমন ক্ষমতায় আসতে পারিনি সত্যি,তেমন রাজ্যের মানুষ তাদের অভাব অভিযোগ,ক্ষোভ অসুবিধের কথা তুলে ধরতে আমাদের বিরোধীদের আসনে বসিয়েছে। আমরা সেই কর্তব্যই পালন করবো নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে।

রাজ্যে আজকাল আর আইনের শাসন নেই । রাস্তায় প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষকে কোপানো হচ্ছে।পুলিশের কোন ক্ষমতা নেই । যা আছে তা হল মমতার তাঁবেদারী করার মানসিকতা। তাই এই পন্থী ও পন্থী নয়, পুরো তৃণমূল দলটাকেই সমূলে উপড়াতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মানুষ যোগ্য জবাব দেওয়ার পরেও ব্যাকডোরে তিনি আবার জুড়ে বসেছেন । তাঁকে তাঁর দলের নেতা-নেত্রীরাই চাইছে না ।তাও গদি আঁকড়ে বসে আছেন। যারা ৫০০টাকার লোভে ভোট দিয়েছেন,তাঁরাও এবার বুঝেছেন কী ভুল করেছেন এই সরকারকে এনে। খুন,ধর্ষণ থেকে আমাদের মত বিরোধীদের তো ছেড়েই দিন,রেহাই পাচ্ছেন না তাঁরাও। বিরোধীদের অনেকেই দোকান,বাড়ি,গোরু-ছাগল সব খুইয়েছেন, তবুও দলের কর্মসূচিতে আসা থামাননি। আমাদের রাজ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহামিছিল তারই প্রমাণ। আগামীতে এই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে। বন্ধ হবে না যতদিন না পর্যন্ত এই রাজ্যে গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি,আর হিংসামুক্ত রাজনীতির পরিবেশ নিয়ে না আসতে পারি।

“কানে বন্দুক ঠেকিয়ে চলছে তৃণমূল রাজত্ব,’ধর্ষণের স্বর্গে’ পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ”

 

“কানে বন্দুক ঠেকিয়ে চলছে তৃণমূল রাজত্ব,’ধর্ষণের স্বর্গে’ পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ”

রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের এক বছরও পূর্তি হয়নি তৃণমূলের সরকারের।তাতেই জনগণের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠছে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার। তাহলেই রাজ্যবাসী বুঝতে পারছেন যে ঠিক কী চলছে রাজ্য়ে! এতদিন পুলিশ,প্রশাসনের উপর, সরকারি আধিকারিকদের উপর প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পথে পরিচালিত করেছে শাসক দল। এখন বিচারব্যবস্থাতেও আক্রমণ করছে তাদের সমর্থকেরা। বুধবারদিন নক্কারজনক তৃণমূল পন্থী আইনজীবীদের দেখে আশ্চর্য বোধ করছিলাম। আদৌ কি ওই আইনজাবীরা আইনের পাঠ নিয়েছেন না কি তৃণমূলের কিছু গুণ্ডাকে কালো কোর্ট পড়ে পাঠানো হয়েছে সেখানে! বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে তাঁর নির্ভীক অবস্থানের জন্য সাধুবাদ জানাই । কিন্তু তিনিও বা কতদিন পারবেন এই অত্যাচারের সামনে মাথা নত না করে থাকতে পারবেন? উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ যে দক্ষ মহিলা পুলিশ আধিকারিককে তদন্তের দায়ভার দিয়েছিলেন প্রথমে,তিনি পার্কস্ট্রীট কাণ্ডের সময় সত্যি সামনে আনাতে তাঁকে গ্যারেজ হয়ে যেতে হয়েছিল সে কথা মনে রেখে তিনি কি পারবেন নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট দিতে?কারণ তাঁকে এই সরকারের অধীনেই চাকরি করতে হবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষণের তদন্তের আগেই ধর্ষকদের আড়াল করতে মাঠে নেমে যান।পুলিশকে ,এমনকি পোস্ট মর্টেম করছেন যে ডাক্তার তাঁদের বলে দেন কী কী লিখতে হবে। কারোরই স্বাধীনভাবে কোন কাজ করার উপায় নেই এই রাজ্যে। আমাদের এতো কর্মী খুন হয়েছেন,নাবালিকা ধর্ষণ হচ্ছে তিনি কোনদিনই তার জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করেননি ।বরং সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অপরাধ নিয়ে।

সাংবাদিকদেরও কোন নিরপত্তা নেই । বেহালায় খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা। পৌরসভা নির্বাচনে হয়েছেন। তৃণমূলের রাজত্বে রাজ্যের সব স্থানেই এমন ঘটনা বেশি করে ঘটবে এই দল থাকলে। কারণ এখন তো লড়ছে তৃণমূলের দুই পক্ষ। বখরার জন্য। পাওনার হিসেবে গড়মিলের জন্য খুনোখুনি করছে আর তাতে মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

বালি, সিমেেন্ট,পাথর সব কিছু থেকে তাদের ছোট,মাঝারি ও বড় নেতাদের পকেট ভরেছে । তাতে একটি পরিবার লাভবান হয়েছে আর গোটা রাজ্য এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে । দুমাস পর থেকে জিএসটি থেকে যে রোজগার তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে । তাই প্রভিডেন্ড ফাণ্ডের দিকে এবার তাঁর নজর পড়েছে।রাজ্য সরকারের ভাঁড়ার যে শুন্য তা সবাই বুঝতে পারছে।

এমন পরিস্থিতিতেও বিজেপি সংবিধানের উপরই আস্থা রাখে। তারা চায় না রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন হোক । বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি। কিন্তু যখন লোকসভার মন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তিনি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসনকে হাতিয়ার হিসেবে বিজেপির বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার সুষ্ঠ মত রাজ্য চালাক। রাজ্যপালও তাই চান। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিনি তাই বারবার ফ্ল্যাগ তোলেন কোন গুরুতর ঘটনায়। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। কিন্তু তাতেও সমস্য়া তৃণমূলীদের। রেয়াত করেন না রাজ্যপালকে। অকথা-কুকথা শুনতে হয়। কালো পতাকা দেখতে হয় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই এখনও সময় আছে রাজ্যের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা,প্রশাসন, দলদাস পুলিশকে সঠিক পথে চালিত করুন। না হলে আমরাও বাধ্য হব সংবিধানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ।

” বীরভূমের গণহত্যা পুরোই রাজনৈতিক ঘটনা। কোন দলের না জানলেও,গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই দুদিনে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এদিকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের দিকে কোন খেয়াল নেই,তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নানা রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”

 

বীরভূমের গণহত্যা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিহিংসার বলি অসংখ্য মানুষ।পানিহাটি হোক বা বীরভূম। শাসকের কাটমানির রাজনীতি,ক্ষমতার লড়াইয়ের রাজনীতি নিজেদের দলের মধ্যেই আগুন জ্বালিয়েছে।অথচ কোন ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের। আনিস খান থেকে পানিহাটি,পুলিশ শাসকের পুতুল। বিরোধীদের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া ছাড়া এই রাজ্যে পুলিশের কোন ভূমিকাই নেই। বীরভূমের ঘটনায় অভিযোগ, পুলিশের সামনে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে মানুষগুলিকে। পুড়তে দেখেও তারা বাঁচানোর কোন চেষ্টা করেনি।

এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা? তালিবানি শাসনের থেকে কী খুব উন্নত জায়গায় আছি আমরা? আনিস খানের হত্যাকে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বৃদ্ধ পিতার একরোখা অবস্থানে দ্বিতীয় বার দেহের ময়ানতদন্ত হলেও বিচার কী পেলেন সেই পরিবার? ‘দিদি’র পেটোয়া সংবাদমাধ্যমগুলি আচমকাই আনিসের সব খবর দেখানো বন্ধ করে দিল? প্রিয় রাজ্যবাসী ভেবে দেখুন কেন ওই সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে না? আসলে অসাধু পুলিশ ও তৃণমূল নেতৃত্বের নির্লজ্জ আঁতাতের ফলেই যে ওই রকম অনেক আনিসের মৃত্যু হচ্ছে রাজ্যের নানা প্রান্তে তা প্রকাশিত হয়ে পড়ছিল।তাই বন্ধ করা হল দেখানো। একই ভাবে রামপুরহাটের এই গণহত্যাকেও চেপে দেওয়া হবে । কেন্দ্রীয় দল চলে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলিকে লোভ দেখিয়ে বন্ধ করিয়ে দেওয়া হবে সম্প্রচার। রাজ্য সরকার প্রতিটি ঘটনাতেই সিট গঠন করে।

তবে সেই সিটের তদন্তে কী উঠে এল তা কখনই জানা যায় না! লোক দেখানো এই তদন্তের উপর তাই ভরসা উঠেছে মানুষের। সিবিআই তদন্ত চাইছেন রাজ্যবাসী।প্রতি ক্ষেত্রেই প্রকৃত তথ্য গোপন করছে রাজ্য সরকার। প্রিয়া রাজ্যবাসী,এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পুলিশ মন্ত্রী। বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এত অভিযোগের পরেও কেন চুপ থাকবেন তিনি? বিধানসভায় আমাদের বিধায়কেরা তাদের উত্তর দাবি করেছেন। তিনি এই সকল ঘটনার সময়েই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’বলে চিহ্ণিত করেছেন।আর বেরকায়দায় বলি দিয়েছেন পুলিশ কর্মী থেকে পুলিশ আধিকারিকদের। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শিঁকেয় তুলে দিয়ে মমতা চলেছেন প্রধানমন্ত্রী হতে? পশ্চিমবঙ্গে উপপ্রধান বা প্রধান বা পৌরপ্রতিনিধির পদ পেতে যেভাবে মুড়ি মুড়কির মত খুন হচ্ছেন মানুষ,কয়েকদিন আগে হওয়া পাঁচ রাজ্যের মধ্যে চার বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে এমন কোন খবর উঠে এসেছে কি? সবচেয়ে খারাপ (তৃণমূলের কথায়) শাসন উত্তরপ্রদেশ থেকেই বা কটা হিংসার খবর নির্বাচনের আগে বা পরে পেয়েছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন করছি রাজ্যবাসীকেও। উত্তর চান প্রশাসনের থেকে । রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে।

বিজেপি বিকাশ ও উন্নয়নে বিশ্বাসী,আর তাতেই আস্থা ভারতবাসীর

 

গতকাল ১০ই মার্চ ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বের হয়েছে।যাতে চার রাজ্যে বিধানসভার সহজ জয় লাভ করেছে বিজেপি। তবে তার মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য ছিল যোগীজির রাজ্য শ্রীরামের জন্মভূমি উত্তরপ্রদেশ। কথায় বলে উত্তরপ্রদেশ যার, দিল্লির মসনদ তার। সেই মসনদে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রথমবারের জন্য জাতপাতের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে যুবা ও মায়েদের আশীর্বাদ পেয়েছেন মোদিজি ও যোগীজি। উত্তরপ্রদেশের try নির্বাচনের বিভিন্ন দফায় সমাজবাদী দলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলের একটি কার্যালয় বা শাখা সংগঠন খোলার যেখানে মুরদ নেই, সেখানে খানিকটা ফকট দালালি করে জনসভা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রথমত সেখানে যোগীজি ও বিজেপির সমালোচনা করতে যা হিন্দির ব্যবহার করেছেন তাতেই ওখানকার মানুষ জ্ঞান হারিয়েছিলেন। উনি হয় তো জানেন না দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে হিন্দি বলয়ে হিন্দিটা শুদ্ধভাবে বলা প্রয়োজন। যাই হোক তাও মুখ টিপে হেসেও উত্তরপ্রদেশের অপর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অখিলেশ যাদব তাঁর মুখে মোদি-যোগীর নিন্দা শুনেছিলেন। মমতা সেখানে বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক তকমা সহ আইনশৃঙ্খলার অবনতির নানা উদাহরণ দিয়েছিলেন। কৃষক আন্দোলনের রাজনীতিকরণের ফায়েদা তুলতে বিজেপিকে কৃষক বিরোধী দেখানোর সকল চেষ্টা যে ব্যর্থ করে দিয়েছেন সেখানকার মানুষ তা প্রমাণ দিয়েছে কালকের ফলাফল।

মমতা এরাজ্যেও মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন মিথ্যা কথা বলে। সেটা তিনি সেখানেও বলেছিলেন। কোভিডকালে না কি বাংলার গঙ্গায় উত্তরপ্রদেশ থেকে লাশ ভেসে আসছিল। যোগী সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই কাজ করেছিলেন বলে যে অপপ্রচার করেছিল মমতা অ্যান্ড কোং, তা মেনে নেননি উত্তরপ্রদেশের মানুষ। তাই সপাটে চড় মেরেছেন মমতা ও তার সহযোগী সমাজাবাদী দলকে। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা, সেখানে গণতন্ত্র লুন্ঠিত হয় প্রতি মুহূর্তে, আর তিনি কী না গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের পাঠ দিতে যোগী রাজ্যে! মেদিনীপুরের বিজেপি কার্যালয়ে বিজেপির অগণিত মানুষ এই রাজ্যের ভোটের ফলাফলের ৯মাস পরেও দিন কাটাচ্ছেন। তৃণমূলের গুণ্ডাদের অত্যাচারে ঘরে ফেরত যেতে পারছেন না । তিনি উত্তরপ্রদেশে গিয়ে গণতন্ত্রের কথা বলছিলেন হাথরাসের মত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা যা অবশ্যই দুঃখজনক ,তার উদাহরণ দিয়ে।
এবারে আসি গোয়ার কথায়। গোয়ায় তাঁর ভাইপো ও তিনি মিলে সরকারটা প্রায় গড়েই ফেলেছিলেন। মানুষের করের টাকায় বিমানে করে অসংখ্যবার তিনি ও তার দলীয় নেতৃত্ব রীতিমত মোচ্ছব করলেন। কালকের ফলাফলের প্রথম দিকে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা নিয়ে তারা তো এতটাই নিশ্চত হয়ে গিয়েছিলেন যে মমতা ব্যানার্জির জয়রথ দিল্লি অবধি নিয়ে ফেলেছিলেন টিভি চ্যানেলগুলিতে বসে। তবে গোয়ার মানুষ এত বোকা নন। তাই ফাঁকা আওয়াজে নয়,মোদিজির উন্নয়ন এজেণ্ডাতেই শিলমোহর দিয়েছেন। তার জন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। সর্বোপরি যে কথা না বললেই নয়,বাংলায় বিজেপি কর্মী বা কার্যকর্তাদের যেভাবে নিজেেদের বলিদান দিতে হয়েছে বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূলের, কাল ফলাফলের পর তেমন কোন খবর কি কোথাও চোখে পড়েছে বন্ধুগণ? কোন মুসলিম পরিবারকে আতঙ্কে ঘর ছাড়তে হয়েছে কি? একটু খবর নেবেন। বিজেপিকে ভয় পেয়ে বিজেপির নামে কুতসা রটানো আসলে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে মমতা ও তাঁর দল।তাই একটু সাহস করে তৃণমূলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রুখে দাঁড়ান আগামী নির্বাচনগুলিতে।বলপ্রয়োগে গণতন্ত্রকে প্রহসন করে যাতে আর বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃিতকে তলানিতে না নিয়ে যেতে পারে শোষক-শাসক তৃণমূল।

গণতন্ত্র ও রাজ্যকে বাঁচাতে বিজেপির হাত শক্ত করুন

 

 

সুধী নাগরিক বৃন্দ,

রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। যার মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়,তবে আসন্ন পৌর নির্বাচন অন্যতম বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের মুখোশ পুরোটাই খুলে পড়েছে ,যতদিন যাচ্ছে তা রাজ্যবাসীর কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটের জয়ী হয়েও তাদের রাজনৈতিক হিংসার প্রবণতা একটুও কমেনি,বরং তা উত্তোরতর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী,বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের হাতে ও ভাতে মারার জন্য রাজ্যের প্রতিটি কোণাতেই চলছে ষড়যন্ত্র।নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে বিরোধী প্রার্থীদের ধমকে চমকে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা আসলে রাজ্যে বিজেপি শূন্য করাই তাদের উদ্দেশ্য। ভয় দেখিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য,বিধায়কদের দল ভাঙিয়ে তৃণমূলে ঢোকানোর ঘৃণ্য় চক্রান্ত করা হচ্ছে। কথা না শুনলে তাদেরকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।আলিপুরদুয়ারের যুবক শুভ্রজ্যোতিকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল তৃণমূলী হার্মাদদের হাতে শুধু বিজেপি করে বলে।বিধায়ক থেকে সাধারণ কর্মী নিস্তার পাননি কেউ।

আসন্ন যে পুরসভা নির্বাচন,তাতেও বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে ।ঠিক যেভাবে কলকাতায় বিজেপি প্রার্থীদের রাতের অন্ধকারে ভয় দেখিয়ে,অস্ত্র দেখিয়ে প্রচারে নামতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলের গুণ্ডা বাহিনী। খাস কলকাতার বুকে নির্বাচনের দিনে বিজেপি মহিলা প্রার্থীর গায়ে হাত দেওয়া তার ব্লাউজ ছেঁড়ার মত ঘটনা বর্বরোচিত সমাজেই সম্ভব যা কী না তৃণমূল শাসিত। একই চিত্র কলকাতা লাগোয়া বিধাননগর নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। রাতের অন্ধকারে বিজেপির পতাকা ছেঁড়ার কাজ চলছে।পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কোন লাভ নেই।কারণ তারা শাসকের দলদাসে পরিণত হয়েছে।বিরোধী শূন্য করার এই চক্রান্ত অত্যন্ত ঘৃণ্য ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।আমাকে অনেকেই বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রশ্ন করেন ? তাদেরকে একটাই কথা বলতে চাই বিজেপি আগের থেকে শক্তিশালী হয়েছে তার প্রমাণ আমাদের ৭৭জন বিধায়ক বিধানসভায় গিয়েছেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা যদি রোজ রোজ বিজেপির কর্মী নেতা এমনকি আমাকেও নিশানা করেন রাস্তায় নামলে,তবে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিশালী হওয়া কীভাবে চোখে দেখতে পাবেন আম আদমি।

রাজ্যে যে কোন নির্বাচন হওয়ার আগেই রাজ্যের আনাচে-কানাচে থেকে উদ্ধার হচ্ছে ঝুড়ি ঝুড়ি বোম।তৃণমূলী হার্মাদরা সেগুলির মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলি অপরাধের আখড়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের স্থানীয় শাসক দলের নেতারা মদত দিচ্ছে পাচার,মাদকের মত আন্তর্জাতিক অপরাধে। ভাগ-বাটোয়ারা করে চলে দিনের পর দিন মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে মালদহের কালিয়াচকের মত জায়গা। রাজ্যে জঙ্গীযোগের সন্ধান পেলেও তা নিয়ে মোটে হেলদোল নেই রাজ্যের পুলিশ ও গোয়েন্দাদের। বরং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলতেই থাকে রাজ্য সরকারের তরফে। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ সতর্ক থাকুন। বারুদের স্তূপে থাকা রাজ্যকে সামাল দিতে উদ্যোগী হতে হবে রাজ্যবাসীকেই।গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাঁচাতে বিজেপির সঙ্গে সামিল হতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে তৃণমূল স্তরের পরিষেবাকে সুনিশ্চিত করতে হবে প্রিয় নাগরিকবৃন্দ।

About Video Timeline Gallery Contact