নৈরাজ্য

‘নেই রাজ্যে’ আছে শুধু মাদ্রাসা ও ইসলামীকরণের উপাদান

 

পশ্চিমবাংলার বাংলাদেশ লাগোয়া জেলা গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার জনভারসাম্যের দিক থেকে যথেষ্টই শঙ্কাজনক সেখানকার হিন্দু বসবাসকারী মানুষদের জন্য। সাম্প্রতিককালে দেশের প্রথম সারির এক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী,মুর্শিদাবাদ,মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের মত জেলা গুলিতে মুসলিম সংখ্যাধিক্য হওয়ায় ঠিক ১৯৯০সালে কাশ্মীর পণ্ডিতদের মতই ভয়ে নিজেদের ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন সেখানকার হিন্দুরা। বাংলাদেশ থেকে ক্রমাগত এপারে আসা বাঙালি মুসলিমদের সংখ্যা ও পাকাপাকি ভাবে তাদের বসবাস, যা ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে পুরো এলাকার ধর্মীয় ভারসাম্য।

 

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দাপটে ও তাদের সঙ্গে শাসক ও প্রশাসনের যোগ সাজশের ফলে ধীরে ধীরে সেখানকার জমি,ঘর-বাড়ি ছেড়ে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে চলে যাচ্ছেন হিন্দুরা। প্রথমে প্রতিবেশী হিসেবে ওই মুসলিম পরিবারগুলি জমি বা ফাঁকা বাড়ি দেখা শোনা করলেও দু-তিনবছরের মধ্যেই গোটাটাই হস্তান্তর হয়ে যাচ্ছে মুসলিম পরিবারের দ্বারা। হিন্দুরা হয়ে উঠছে নিজ ভূমে পরবাসী।

জেলাগুলি মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ার ফলে ওই সকল জেলার অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ছে ব্যপকভাবে। যেমন মালদার আমের ক্ষেত্রে ধরা যাক। আগে যে আমের ব্যবসা পুরোটাই ছিল হিন্দুদের দখলে, আজ বেশিরভাগ আমবাগান ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন মুসলমানেরা। বাংলাদশ লাগোয়া হওয়ার ফলে উর্বর চাষআবাদের জমি থাকায় স্থানীয় ব্যবসার লাভ পুরোটাই পাচ্ছেন ওপার থেকে আসা পরিবারগুলি।

উল্লেখযোগ্য ও সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হল বাংলাদেশ লাগোয়া ওই জেলা গুলিতে কমপক্ষে ৫০০এর কাছাকাছি মাদ্রাসা রমরমিয়ে চলছে । মুসলমান নারীদের জন্য বিনামূল্যে নার্সিং থেকে সব রকম শিক্ষ দেওয়া হলেও পুরুষদের ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়া একেবারেই বাধ্যতামূলক। ৭-৩০বছর বয়সী ছেলেরা মাদ্রাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে বুখারি বা ইমাম হচ্ছে । কখনো তারা চলে যাচ্ছে সৌদি আরবের মত দেশে আরও বেশি করে পাঠ নিতে। বিনামূল্যে মাদ্রাসা বা এই কর্মকাণ্ড চলছে কী করে? চলছে অনুদানে । বিদেশের ও দেশের নানাপ্রান্তে জাকাতের টাকা ছাড়াও অনুদান পেয়ে থাকে এই মাদ্রাসা গুলি।

এই সবই জানা রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা থেকে নবান্নে বসে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর নির্দেশেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই সকল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পোস্টিং করেছেন কোন মুসলিম আইপিএস বা আইএএস আধিকারিককে।যার ফলে বাংলাদেশ থেকে এদেশে বাংলাদেশীদের আসা ও থাকা হয়তো বা সহজ হচ্ছে ।উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২১সালের আদমসুমারি অনুযায়ী ১৯৫১ সালের পর থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃদ্ধি হয়েছে ২.৯৯% যা এখনো অবধি সর্বেচ্চ পশ্চিমবঙ্গে।মুর্শিদাবাদ জেলায় সরকারি খাতায় মুসলিমদের হার ৬৬.৮৮% বা প্রায় ৬৭%। মালদহের ক্ষেত্রে ৫১.২৭% যা কী না পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা,যেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু।তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর,হার ৪৯.৯২% বা প্রায় ৫০%।এর পরেই দ্রুত হারে যে জেলা গুলিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তা হল দক্ষিণ ২৪পরগণা ও বীরভূম,যেখানে এই হার প্রায় ৪০শতাংশ ছুঁই ছুঁই । অতএব সাধু সাবধান। গ্রেটার ক্যালকাটা কিলিং কলকাতার এখনকার প্রজন্ম দেখেনি। তবে ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যায় যে তা হযেছিল নিজেদের পৃথক জায়গা দাবি করেছিল এখানকার মুসলমানেরা। সেই পথেই কী তৃণমূল সরকার তাদের স্বার্থ চরিতার্থের জন্য নিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবাসীকে। নেই রাজ্যে চাকরি নেই, শিক্ষা নেই,খাদ্য নেই, চিকিতসা নেই। কিন্তু আছে মাদ্রাসা, আছে মুসলিমদের তোষণ,আছে অবৈধ অনুপ্রবেশ ।

তৃণমূল কেবলই ধ্বংসের রাজনীতি করতে জানে

8th february 2017. Congress MLAs including female manhandled by tmc MLA's
8th february 2017. Congress MLAs including female manhandled by tmc MLA’s.

 

২০০৬সালের ৩০শে নভেম্বর।পশ্চিমবঙ্গের শাসনে তখন বামফ্রন্ট সরকার। আর বিরোধী আসনে আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ভরপুর বিধানসভায় হাতে সংবিধানের সংস্করণ নিয়ে উদভ্রান্তের মত মমতা ঢুকে পড়লেন বিধানসভায়। চেঁচিয়ে বাজিমাত করে বোঝাতে চাইলেন যে বুদ্ধদেব ভট্টাতার্যের পুলিশ তাঁতে ডানকুনিতে জোর করে আটকে দিয়েছে।সঙ্গে যারা ছিল তাদের সহ মমতার উপর চড়াও হয়েছে কিল ঘুষি নিয়ে। আর তাই ছুটে এসেছেন মমতা বিচার চাইতে। এই অবধি সংসদীয় রাজনীতিতে মানাই যায়। যদিও প্রশ্ন একজন সাংসদ (মমতা তখন সংসদ) বিধানসভার ভিতর কী করে বিনা বাধায় ঢুকে পড়লেন? তৃণমূলের জমানায় তো একটি মাছিকেও গলতে দেওয়া হয় না। যাই হোক তারপরেই দিদির এহেন লাঞ্ছনা দেখে তাঁর ভাইয়েরা নেমে পড়লেন আসরে। বিধানসভা কক্ষ থএকে বেরিয়ে সেদিন অধ্যাপক সৌগত রায়ের মত সজ্জন ব্যাক্তিরা কী কী ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং তার সঙ্গীরা তৃণমূল বিধায়কেরা বিধানসভার আসবাবপত্রকে ভাঙচুর করেছিলেন যা আরেকবার তাদেরকে স্মরণ করানোর প্রয়োজন পড়েছে। বিরোধীর আসনে বসে আসবাবপত্র ভাঙা যায়,আর আসসনের আসনে বসে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে রাখতে হয় ।তা সে বিধানসভার বাইরেই হোক বা অন্দরে।

আরেকটি ঘটনা ২০১৭ সাল ।৮ই ফেব্রুয়ারি। বিধানসভায় দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে আস্ফালন বেড়েছে শাসক তৃণমূলের। যে তৃণমূল বিরোধী আসনে বসে বিধানসভার জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছিলেন, তারা কী না বিল আনলেন যে সরকারি সম্পত্তি ভাংচুর করা যাবে না। ২০০৬এর বিধানসভার কথা মনে করিয়ে দিতেই সেই সময়কার বিরোধী দলের কপালে জুটলো প্রহার। কংগ্রেসের নেতা আব্দুল মান্নান সহ একাধিক বিধায়ক আহত হলেন। সেই দিন ছিল পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কালো দিন।

এই দুই ঘটনার পরে ২০২২সাল।২৮শে মার্চ। বিধানসভার অন্দরে ধুন্ধমার শাসক বিরোধী। বিজেপি বিধায়কেরা বগটুই নিয়ে বিবৃতি দাবি করেছিলেন বিধানসভার অন্দরে। তা নিয়ে প্রথমে তর্ক ও পরে আক্রমণে নেমে আসে শাসক কূলের বিধায়কেরা। তৃণমূলের এই অরাজকতার সংস্কৃতি আজ নতুন নয় । কী শাসক বা বিরোধী,তৃণমূলে মানেই যে গুণ্ডামি অতীত তার সাক্ষী রয়েছে।

মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ নেয় জঙ্গিরা,অথচ সব দেখে শুনে চুপ রাজ্য সরকার

সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত বাংলা

বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।রাজ্যে বাইরের জঙ্গী সংগঠনের জাল। কখনো তা বর্ধমান কখনো বা মুর্শিদাবাদ। কখনো সেই জাল খোদ কলকাতার বুকে। দুদিন আগেই হাওড়ার বাঁকড়া থেকে দুই জামাত জঙ্গীকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।আর তাদের আশ্রয় দেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষককে দুদিন পর গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার নথি। তবে এই ঘটনা প্রথমবারের জন্য নয়। আসুন ফিরে দেখি কয়েক বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা যা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে রাজ্যের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত দেয়:

 

৩রা নভেম্বর,২০২১—দক্ষিণ ২৪পরগণার সুভাষগ্রাম থেকে এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার এক জেএমবি জঙ্গী।তার কাছ থেকে উদ্ধার জাল ভোটার ও আধার কার্ড।বাংলাদেশের বাসিন্দা এই জঙ্গীর সঙ্গে আল কায়দা ও হুজি জঙ্গী সংগঠনের যোগ সূত্র রয়েছে।

১৩ জুলাই,২০২১সালে—হরিদেবপুরে এলাকা থেকে তিন জেএমবি জঙ্গীকে আটক করে কলকাতা এসটিএফের গোয়েন্দারা।তাদের হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ লিফলেট উদ্ধার হয়।একাধিক জাল ফেসবুক প্রোফাইল পাওয়া যায় তাদের।সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে জঙ্গী নিয়োগ করা এদের মূল কাজ ছিল।

১৫ই জুলাই,২০২১— বারাসাত পৌরসভা এলাকা থেকে নব নিযুক্ত জঙ্গী রাহুল সেন ওরফে রাহুল কুমারকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।জঙ্গীদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করা ও জঙ্গীদের

২৯শে মে,২০২০–২০১৮সালে বুদ্ধ গয়া বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত আব্দুল করিম ওরফে বোরো করিমকে এসটিএফ ও মুর্শিদাবাদ পুলিশের যৌথ অভিযানে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করে।

অতীত থেকে সাম্প্রতিককাল, একের পর এক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও টনক নড়ছে না সরকারের। সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ককে নিশানা করে মৌচাকে ঢিল মারছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪পরগণা থেকে কলকাতা সব জায়গাতেই অবাধ চলাচল সন্ত্রাসবাদীদের! তাও সরকার অন্ধ। নেই রাজ্যে আছে সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত।                                                                                                                                  link –   https://www.sangbadpratidin.in/bengal/madrasas-training-terrorists-alleges-bjps-dilip-ghosh/?fbclid=IwAR1MIMCLwHhfrfi0Y1cqpWOxkDnpRcXNGaGkVUjigRNSkvnMhLByYP4APyk

About Video Timeline Gallery Contact