নৈরাজ্য

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি,প্রতিবাদে জুটল পুলিশের মার,হয়রানি

এসএসসি-র দুর্নীতির মাঝেই তৃণমূল আমলে টেটের প্রাথমিক নিয়োগেও দুর্নীতি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন একদল যোগ্য চাকরিপ্রার্থী।শেষ বছর এসএসসির চাকরিপ্রার্থী অনুপ গুপ্তা,একটি মামলা দায়ের করেন। সেখআনে দেখা যায় সিদ্দিকি গাজী নামে এক প্রার্থী ২৭৫নং তালিকাভূক্ত হলেও চাকরি করছে । অথচ তালিকায় ২০০নং এ থেকেও সেখানে আবেদনকারী চাকরি পাননি বলে আদালতের দ্বারস্থ হন । এই রকম ৮টি পৃথক মামলায় আদালতে দায়ের করা হয় ।এই মামলাগুলির বক্তব্য খুব পরিষ্কার ছিল । ন্যায্য প্রার্থীদের চাকরি না দিয়ে শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের চাকরি দেওয়া হয়েছে । এই মামলাগুলির দায়িত্ব সিবিআইয়ের উপর ন্যাস্ত করেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। আর তারপরই সিবিআইয়ের আধিকারিকদের জেরার মুখে পড়েছে প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীও। জানা যায়, পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল । তার জেরে চাকরি খোয়াতে হয় রাতারাতি তাকে আদালতের নির্দেশে ও সঙ্গে এতদিন যাবত যা মাইনে নিয়েছেন তাও সরকারকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এর মাঝেই এবার টেটের নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন যোগ্য প্রার্থীরা । নবান্নের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন তারা। প্রতিশ্রুতি দিয়েও চাকরি না পাওয়ায় তারা অবস্থান বিক্ষোভ করেন নবান্নের সামনে । সেখান থেকে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে যায়। মহিলাদের হেনস্থা থেকে গ্রেফতারি সহ্য করতে হয় তাদের।
ইতিমধ্যেই ৮৬জন পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি করছেন বলে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে ২০১৪সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে । সেই প্রার্থীদের চাকরি বৈধ নয় বলেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের মাঝেই নবান্নের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে আদো কি মমতা সরকার চায় এই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দিতে? না কি ভোট রাজনীতির স্বীকার হয়ে এই প্রার্থীদের জীবন বরবাদ হবে এখন লাখ টাকার প্রশ্ন সেটাই ।

কলেজ সার্ভিসে এবার নিয়োগ দুনীর্তির অভিযোগে মামলা হাইকোর্টে

এসএসসির পর এবার দুর্নীতির অভিযোগ কলেজ সার্ভিস কমিশনে। রাজ্য সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগের জন্য ২০১৯ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কমিশন। অভিযোগ বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত পূরণ না করেও ওই পদে কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ পেয়েছেন বহু প্রার্থী। লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে।মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য তলব করেছেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। দেখা গিয়েছে নিয়োগ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে তাঁদের থেকে কম নম্বর পেয়েছে। মামলাকারী অন্তত ১০ জন চাকরিপ্রার্থীর দাবি এমনই। যদিও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রকমের কোনও কারচুপি হয়নি বলে দাবি করেছে কমিশন।নিয়োগের সমস্ত দিকের তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে কলেজ সার্ভিস কমিনকে।আগামী শুনানি ২১শে জুলাই হলেও ১৫ই জুলাইয়ের মধ্যে এই নথি জমা দিতে হবে আদালতে ।

স্বাধীনতার ৭৭বছর পরেও অন্ধকার পৌর এলাকার জামডোবা গ্রাম

সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন,সেই পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাঘাট,পানীয় জল বা বিদ্যুতের সংযোগ,সবেতেই রাজ্য সরকার তাদের প্রচারের দামামা বাজায়।অথচ আস্ত একটা গ্রাম যা কী না , মিউনিসিপ্যাল এলাকায় স্বাধীনতার ৭৭বছর পরেও তারা আলোর মুখ দেখেনি। আসানসোল পুরসভার ৮৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত জামডোবা গ্রাম। আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে এখনো কোন বিদ্যুতের খুঁটি বসেনি। সকালবেলা দিনের আলো থাকতে,থাকতেই তাদের সবরকম কাজ শেষ করে ফেলতে হয় কারণ রাতের অন্ধকারে কোথাও মিশে যায় গ্রামটি । জামডোবার দূরত্ব আসানসোল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার।তাও কেন এত অনুয়ন্ন কেন এখানে ? মিউনিসিপ্যালিটি অঞ্চল হলেও মেদিনীপুরেরও এমন কিছু এলাকা আছে যারা জামডোবার মত ডুবে রয়েছে অনুন্নয়নের অন্ধকারে। জামডোবার মানুষদের কয়েক জনের হাতে মোবাইল তো পৌঁছেছে,কিন্তু তা চার্জ দেওয়া হয় ট্রাক্টরের ব্যাটারিতে । প্রতি ঘরেই রাতের ভরসা মোমবাতির আলো। পঞ্চায়েতের মানুষের জন্য কেন্দ্র থেকে খাবার সামগ্রী সহ নানা প্রকল্পের সুবিধে দিলেও তা তৃণমূলের মেজ সেজ বড় ছোট নেতাদের পকেট ভরতেই চলে যায়। তাই গ্রামগুলি থাকে সেই অন্ধকারেই ।

এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬৯জনের অবৈধ নিয়োগ বাতিল বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে

 

এসএসসির নিয়োগের পর সিবিআইয়ের হাতে টেট পরীক্ষার নিয়োগ আসার পরেই বিড়াল বেরোলো ঝুলি থেকে। একটা দুটো নয় আপাতত ২৬৯ জনের নিয়োগ বাতিল করল কলকাতা হাই কোর্ট। ২০১৪সালের যারা নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার জন্য । ২০২০সালে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যারা ২০১৪সালে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী তাদের থেকে আবেদন অনলাইনে দেওয়ার আবেদন জানান। সরকারী বিদ্যালয়ে কালি পদের সংখ্যা ছিল ১৬,৫০০জন। সেই শুন্য পদ ভরতে এই সকল প্রার্থীদের থেকে আবেদন চাওয়া হলেও আগে থেকেই ২০১৪সালের নিয়োগ নিয়ে মামলা দায়ের করা ছিল। সেই মামলার শুনানি বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হয়। তিনি সমস্ত শুনানির পর পর্যবেক্ষণে জানান যে ২০১৭সালে দ্বিতীয় তালিকায় যে ২৬৯জন চাকরি পেয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। আর সেই সকল প্রার্থীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বেতন ফিরিয়ে দেোয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ।

 

আদালতের নির্দেশ অনুসারে সিবিআই আধিকারিকেরা সমস্ত নথি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান মানিক বন্দোপাধ্যায় ও দফতরের সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচীকে তলব করেন।সোমবারই তারা নিজাম প্যালেসে যান । একের পর এক তালিকা দ্বারা এখনো অবধি সাতটি জেলা থেকে অবৈধ নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে পর্ষদ নিজেই । তাদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে হবে বলে জানানো হয় । এর পাশাপাশি অভিযোগকারীদের মতে এই চাকরির দুর্নীতি নিয়ে যে বিশাল টাকার অঙ্ক লেনদেন হয়েছে। টেট নিয়ে মামলাকারীদের আইনজীবী জানান তা নিয়ে একটি পৃথক মামলার তদন্ত করছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট,যা কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশানুসারেই এগোচ্ছে।প্রসঙ্গত এর আগে ৮৬জনের নিয়োগ অবৈধ বলে আগেই তাদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলেছিল আদালত ।

মৌলবাদী হামলাকারীদের নিশানা বিজেপি কার্যালয়,পুলিশের তোপ বিজেপি নেতাদের দিকে

নাগরিকত্ব বিল আনার সময় সংখ্যালঘু ইসলামিক সম্প্রদায় যেভাবে ক্ষেপে উঠেছিল,তা প্রত্যক্ষ করেছিল গোটা দেশ। আঁচ এসছিল বাংলাতেও।তবে বাংলার মত দেশের অন্যান্য প্রদেশে হিংসার আঁচ সরাসরি পড়েনি বিজেপি কার্যালয়ে বা কর্মীদের উপর । বাংলাতে শাসক তৃণমূলের আমলে বিজেপির দলীয় কর্মী,কার্যকর্তা এমনকি প্রথম সারির নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারী মামলা থেকে কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার মত ঘটনা আগেও দেখেছে দেশ । সেই স্মৃতি আবার টাটকা করে দিল অঙ্কুরহাটির হিংসার ঘটনা । দেশ দেখলো পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীর আসনে বসা মানুষের উপর কীভাবে অত্যাচার করা হয়!পুলিশের সামনে বিজেপির একের পর এক কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিল হামলাকারীরা। পাঁচলা,উলুবেড়িয়া,রঘুদেবপুরের বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর করে ,আগুন লাগানো হলেও এখনো অবধি একটিও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কারণ একটাই যারা আগুন লাগালো তারা তৃণমূলের দুধেল গাই।তারা হামলাকীরদের আটকাতে না পারলেও বিজেপি নেতাদের সেখানে যেতে আটকাতে বেশ তৎপর।

একের পর এক কার্যালয় ভাঙচুরের পরেও বিজেপির প্রদেশ সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সেখানে যেতে আটকানো হয়। সভাপতিকে পুলিশ দিয়ে একপ্রকার হাউস অরেস্ট করিয়ে রাখা হয়। আইনি পদক্ষেপের কথা শুনে পরে যদিও তার বাড়ির সামনে ‌থেকে সরে যায় পুলিশ । কিন্তু হাওড়া যাওয়ার পথে তাকে আবারও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় এবং তাকে আটক করে রাখা হয় পাঁচ ঘন্টা। একইভাবে আটকানো হয় শুভেন্দু ‌অধিকারীকেও।এর পিছনে রয়েছে পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর ইন্ধন। কারণ তিনি জনসমনক্ষে ও প্রচার মাধ্যমের সামনে বলেন,বিজেপির উস্কানিতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারপর থেকেই বলাইবাহুল্য তার তল্পিবাহক পুলিশ বিজেপি নেতাদের আটকাতে অধিক তৎপরতা দেখাতে শুরু করেৎ।

একের পর এক আগুন,ভাঙচুরের পরও দর্শক বাংলার পুলিশ

সিএএ-র সময়ে মুর্শিদাবাদে যে অরাজকতা, হিংসার ছবি দেখেছিল গোটা বাংলা ,সেই দৃশ্যই আবার দেখলো বাংলা। ইসলামিক মৌলবাদীদের এক তরফা সন্ত্রাসের সামনে কার্যত ঠুটো জগন্নাথ হয়ে রইল মমতা ব্যানার্জির পুলিশ। আর একের পর এক সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে টানা ১১ঘন্টা ন্যাশনাল হাইওয়ের মত ব্যস্ত রাস্তাকে অবরোধ করে অসংখ্য মানুষের অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়ালো ওই মৌলবাদীরা। কলকাতার উপকন্ঠে দ্বিতীয় হাওড়া সেতু থেকে মাত্র ১২কিলোমিটার দূরে হাওড়া ডোমজুড়ের অঙ্কুরহাটির কাছে হওয়া অবরোধের জেরে একের পর এক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে লাইনে। দুরপাল্লার যাত্রীরা অসহনীয় গরমে কষ্ট ভোগ করেন। মারা যান এক চিকিৎসা করে ফেরা এক রোগীর ।

না তাতেও সেই অবরোধ ওঠায়নি হামলাবাজেরা। পরপর তিনদিন এই অবরোধের জেরে গোটা বাংলা দেখলো ভাঙচুর,আগুন লাগানোর মত ঘটনা । তাতেও একটিও গ্রেফতার করেনি পুলিশ । বরং সামলাতে না পারার জন্য বদলে দেওয়া হয়েছে হাওড়া গ্রামীণের উচ্চ পদাধিকারী পুলিশ আধিকারিককে। অসহায়ের মত পুলিশ ইট-পাটকেল হজম করেছে । কিন্তু নবান্নের ১৪তলার অনুমতি না থাকায় লাঠি ওঠাতে পারেনি। প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে থানা অবধি এসেছে। ডোমজুড় থানা আক্রমণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে ওই হামলাকারীরা। তাতেও কিছুই করতে পারেনি মমতার পুলিশ । পুলিশের এই অসহায়তার কারণ একমাত্র তৃণমূলের মত শাসকের নির্লজ্জভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম তোষণ। তা এই ঘটনা আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো ।

নৈরাজ্যে শিক্ষার ‘কালো কারবারে’ যুক্ত মন্ত্রী-সান্ত্রীরা

 

 

রাজ্যে ‘ব্যাক’ ডোর দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ ন্যায্য চাকুরি প্রার্থীরা করে আসছিলেন বহুদিন। সাধারণ ভাবে যা টেট মামলা বলে পরিচিত। দীর্ঘ চার বছর লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তার ধারে রোদে পুড়ে জলে ভিজে আন্দোলন করে চলেছেন প্রার্থীরা ।প্রাথমিক থেকে এসএসসি নিয়োগ, গ্রুপ সি থেকে ডি, সবেতেই শাসক দলের উঁচু তলার নেতা থেকে স্থানীয় চুনোপুঁটি নেতাদের দ্বারা তৈরি সুন্দর চেইন সিস্টেমের মাধ্যম এক বন্দোবস্তের ইঙ্গিত বারবার দিচ্ছিলেন ওই বঞ্চিত প্রর্থীরা। সেই সূত্র ধরেই উচ্চ আদলতে গিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট জেনারেল ও নিয়োগ সংস্থা এসএসসি-র কর্তারা বারবার ধমক খেয়েছেন। যে তালিকা মেনে নিয়োগ করা হয়েছে তার প্রত্যেকের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিতে বলা হয়েছে। দেওয়া হলে দেখা যায় তাতে বিস্তর গড়মিল। এমন অনেক নিয়োগ হয়েছে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন নি । আবার কেউ বা পরীক্ষার খাতা ফাঁকা রেখেই বহাল তবিয়তে কোন অদৃশ্য হাতের আশীর্বাদে চাকরি করছেন । গ্রুপ সি-র নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের প্যানেল বাদ দিয়ে নতুন প্যানেল যেমন করতে নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় , তেমনই বেতন ফেরত দিতে বলা হয়ওই সকল ভুয়োচাকরি প্রার্থীদের।

বাংলার রাজনীতিতে নিয়োগ ইস্যুর মধ্যেই সিবিআই এই তদন্তের ভার নিলে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষ মন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায়কে টানা পরপর ম্যারাথন জেরা করে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলে তদন্তের মোড় ঘোরে । নিজাম প্যালেসে টানা জেরার পরেই তদন্তকারীরা তাদের আশঙ্কার কথা জানান। যে সার্ভারের মাধ্যমে সব ডেটা সঞ্চিত আছে তা নষ্ট করে দেওযার ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কায় রাতারাতিই সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়। যা পুরোটাই নজিরবিহীন।
এর মাঝেই আরেক কাণ্ড ঘটে । রাজ্রেযশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে নিজ ক্ষমতাবলে মন্ত্রী চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে মামলা করেন ববিতা সরকার নামে এক যোগ্য চাকুরিপ্রার্থী। টানা চার বছর লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে কোন অদৃশ্য ক্ষমতা বলে অঙ্কিতা ওই চাকুরি পান।অথচ কোন ইন্টারভিউ না দিয়েই। এই ঘটনার জন্য মন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তার মেয় অঙ্কিতার বিরুদ্ধে সিসিআই তদন্তকারীরা এফআইএর দায়ের করে আদালতরে নির্দেশানুসারে । সঙ্গে আদালত অঙ্কিতাকে চাকুরি থেকে বরখাস্তের পাশাপাশি সমস্ত বেতন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।মামলাকারী ববিতাকেও সাড়ে চার বছরের বেতন দিওয়ার নির্দেশ দেন বিচার পতি গঙ্গোপাধ্যায়।

বারবার তদন্তে পরেশ অধিকারী হাজিরা দিচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষ প্রতি মন্ত্রী। তবে বোঝাই যায় তৃণমূলের শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ভাবে যোগ্য প্রার্থীকে চাকরি না দিয়ে অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়ে পাইয় দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরিয়েছেন উঁচু তলার নেতা -নেত্রীরা ।

কাশীপুরের বিজেপি যুব নেতার মৃত্যুতে তৃণমূলের সক্রিয়তাই প্রমাণ করছে কারা ঘটিয়েছে এই ঘটনা!

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাংলা সফরের মধ্যেই খোদ কলকাতায় বিজেপির যুব নেতার রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু ঘিরে উত্তাল কাশীপুর অঞ্চল।প্রসঙ্গত আজই কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন বিজেপির সেনাপতি শাহ। তাঁকে স্বাগত জানাতে যুব নেতা অর্জুনের নেতৃত্বেই বাইক মিছিল হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গিয়েছে। অথচ রহস্যজনক ভাবে কাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিত্যক্ত ইযার্ডের একটি ঘরে তাঁর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা দেহ পাওয়া যায়। সেই দেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে স্থানীয়রাই। পুলিশ সেই দেহ নিতে গেলে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা।খবর পেয়েই অঞ্চলে জমায়েত হতে থাকে বিজেপি সমর্থকেরা । পৌঁছান সর্বভারতীয় সহ সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষও। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোই মাত্রই জমায়েত করা তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে দেখে গো ব্যাক স্লোগান শুরু করে। তাঁর মধ্যেই তিনি পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি । পরিবার ও বিজেপি থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় অর্জুন চৌরাসিয়ার এই মৃ্ত্যু পরিকল্পিত খুন ছাড়া কিছু নয়।

রাজ্যের অন্যান্য স্থানের মতই এখানেও তৃণমূল ছাড়া এই ঘটনা কেউ ঘটাতে পারেনা বলেই অভিমত দিলীপবাবুর। বিজেপির ২০০র বেশি কর্মকর্তাকে খুন করে এভাবেই হিংসার বীজ বপন করেছে তৃণমূল। যাতে ভয়ে কেউ বিজেপির পতাকা না ধরতে পারে । ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তৃণমূলে নেতা অতীন ঘোষ দাবি করেন যে ওই পরিবারে মানে অর্জুনের পরিবারে আত্মহত্যার প্রবণতা আছে! পুলিশি তদন্ত ছাড়াই বারবার এই ধরনের মন্তব্য আগেও করতে শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে নেতা-নেত্রীদের। প্রশ্ন হচ্ছে দেহের ময়নাতদন্তের আগেই কীভাবে দিক নির্দেশ করে দিচ্ছেন ওই তৃণমূল নেতা? এরপর কি আদৌ পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব ? না কি ময়না তদন্ত করা ডাক্তার পৃথক কোন রিপোর্ট দিতে সাহস করবেন? তার উপর স্থানীয় কাউন্সিলর তৃণমূলের নেত্রী সুমন সিং দাবি করেছেন অর্জুন চৌরাসিয়া না কি পুরসভা নির্বাচনে তাঁর হয়ে কাজ করেছেন! শাসক দলের ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধরনের দাবিই প্রমাণ করে যে তাঁরা কিছু ঢাকতে চাইছেন!যা কিন্চু দিনের আলোর মতই স্পষ্ট!

রাজনৈতিক ‘নেতা’র দূতকে ফেরানোর পুরস্কার বিচারপতির এজলাস ‘বয়কট’ কলকাতা হাইকোর্টে

 

পুলিশ প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় শাসক দলের হস্তক্ষেপের এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী-ই বা দেখতে পারে রাজ্যবাসী।বুধবার দিনভর যে  চিত্রনাট্য রচনা করল তৃণমূল পন্থী আইনজীবীরা তার চিত্রনাট্য যে অন্য কোথাও রচিত হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।যে প্রশ্ন প্রকাশ্য বলতে চাইছেন উচ্চ আদালতের এই মুহুর্তের সবথেকে চর্চিত বিচারপতি,তার উত্তর সামনে চলে এলে পায়ের তলার মাটি খানিকটা হলেও টলবে এই সরকারের।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর আপ্তসহায়কের নাম বা খোদ শিক্ষামন্ত্রীর নামও জড়িয়ে যেতে পারে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির সঙ্গে, আর তাই কি বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের শেষ শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত চারটি মামলায় দেওয়া সিবিআই তদন্তের নির্দেশের মামলায় স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের,এমনই ইঙ্গিত করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও শীর্ষ আদালতের। তারপরেই তাঁর এজলাসে মামলা করা যাবে না বলে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন সংখ্যা গরিষ্ঠ তৃণমূল আইনজীবী সম্বলিত বার অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার সেই রেজোলিউশনকে মান্যতা দিয়ে তৃণমূল আইনজীবীরা তাঁর ঘরের সামনে পথ আটকে বসে পড়লেন। যারা মামলা করতে চাইলেন তাদের জন্য ছিল শাসক-সমর্থক আইনজীবীদের চোখরাঙানি।

সমস্যাটা তৈরি হয় যখন প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার প্রেরিত দূতকে তিনি মামলা থেকে ওই নেতাকে না বাঁচানোর ইঙ্গিত দেন। তারপর থেকেই তাঁর দেওয়া মামলাগুলির নির্দেশের উপর বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ দেন। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর আপ্তসহায়কের নাম বা খোদ শিক্ষামন্ত্রীর নাম জড়িয়ে যেতে পারে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতিতে, আর তাই কি বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের শেষ শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত চারটি মামলায় দেওয়া সিবিআই তদন্তের নির্দেশের মামলায় স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের,এমনই ইঙ্গিত করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও শীর্ষ আদালতের। তারপরেই তাঁর এজলাসে মামলা করা যাবে না বলে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন সংখ্যা গরিষ্ঠ তৃণমূল আইনজীবী সম্বলিত বার অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার সেই রেজোলিউশনকে মান্যতা দিয়ে তৃণমূল আইনজীবীরা তাঁর ঘরের সামনে পথ আটকে বসে পড়লেন। যারা মামলা করতে চাইলেন তাদের জন্য ছিল শাসক-সমর্থক আইনজীবীদের চোখরাঙানি।

সমস্যাটা তৈরি হয় যখন প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার প্রেরিত দূতকে তিনি মামলা থেকে ওই নেতাকে না বাঁচানোর ইঙ্গিত দেন। তারপর থেকেই তাঁর দেওয়া মামলাগুলির নির্দেশের উপর বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ দেন।

রাজ্যের তদন্তে ভরসাহীন আদালত,বারবার সায় সিবিআই তদন্তে

রাজ্যের শিক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা এই দুই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতা উঠে আসছে বারবার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায় এড়াতে তড়িঘড়ি বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুবিচার পাইয়ে দেবার দাবি করেছেন। তাতে নিট ফল শুন্য। ধীরে ধীরে তাই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার উপর আস্থা হারিয়েছেন। সেই অবস্থায় একমাত্র মানুষের ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আদালত। কখনও জনস্বার্থ মামলা বা আক্রান্ত পরিবার বা চাকরিহীন যুবাদের মামলার রায়দিতে গিয়ে আদালতের কাছে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় ধরা পড়েছে তুমুল অসঙ্গতি। আর তাই রাজ্যের তৈরি কোন কমিটির উপর ভরসা না রাখতে পেরে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়কে তদন্তের দায়ভার দিয়েছেন তাঁরা। রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য শাসনক্ষমতায় আসার পরে সিবিআইয়ের হাতে যাওয়া উল্লেখযোগ্য মামলা,রাজ্যের পরিকাঠামোগত ত্রুটি ও দুর্নীতিকেই ইঙ্গিত করছে।আসুন দেখে নি কোন কোন মামলা গত সাড়ে সাত মাসে সিবিআইয়ের হাতে ন্যস্ত হয়েছে আদালত দ্বারা–

১৯শে আগস্ট,২০২১: ভোট পরবর্তী খুন,ধর্ষণ ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

২২শে নভেম্বর,২০২১: স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ,সিবিআই তদন্তের নির্দেশ,পরে যদিও ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশ

১৫ই ফেব্রুয়ারি,২০২২–স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ সি কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই এর অভিযোগ,পরে ডিভিশন বেঞ্চে স্থগিতাদেশ

২২শে ফেব্রুয়ারি,২০২২ হলদিয়া বন্দরে তোলবাজির অভিযোগ নিয়ে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ

২৮শে ফেব্রুয়ারি,২০২২ : ২০১৬সালে নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

২৫শে মার্চ,২০২২: রামপুরহাট বগটুই কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ,রাজ্যের তৈরি সিটকে প্রাধান্য না দিয়ে নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

৪ঠা এপ্রিল: ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনে সিট গঠন করলেও সিবিআইয়ে ভরসা রাখলেন কলকাতা হাইকোর্ট

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হিংসার ঘটনায় আনিস খুন ছাড়া প্রায় সব কটিতেই রাজ্যে পুলিশের তদন্তের উপর কোন ভরসা রাখেনি আদালত।রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের শাসক দলের কাছে নিজেদের শিঁড়দাড়া বিক্রি করে দেওয়ার এক সাক্ষ্যও বলা যেতে পারে । কারণ দুটি ক্ষেত্রে রাজ্য সিট গঠন করলেও আদালত মনে করেছে সেই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না ।

About Video Timeline Gallery Contact